Saturday, July 16, 2011

Anything You Want

এই বইটিতে লেখক ড্রেক সিভারস তাঁর সিডিবেবি নামের কোম্পানির উদ্যেশ্য, শুরু, বেড়ে ওঠা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন।এই লেখাটি বইটার একটি মোটামুটি সারসংক্ষেপ বলা যেতে পারে।

Buy the book at Amazon.com



সঠিক লক্ষ্য ঠিক করা

আপনি কোন কাজ করে আনন্দ পান সেটা প্রথমে খুজে বের করুন। কাজের মধ্য আনন্দ না থাকলে বড় কিছু করা যায় না। প্রথমে ঠিক করুণ আপনি কি করলে আনন্দ পাবেন। অন্য সবাই কি করলে আপনার ভাল হবে সে বিষয়ে যাই বলুক বা চিন্তা করুক সেটা নিয়ে চিন্তা না করে আপনি কিসে আনন্দ পান সেটা ভেবে বের করুন। যে কাজে আনন্দ পাবেন না- সেটা করার পিছনে সময় দিলে আর কঠোর পরিশ্রম করলে হয়ত কিছু একটা হবে- কিন্তু সেটা যদি আপনাকে আনন্দ না দেয় তাহলে সময় এবং শক্তি দুইটারই অপচয় ছাড়া কিছু হবে না। আপনার কাছে কোন কিছু যদি গুরুত্বপূর্ণ না মনে হয় তাহলে যে যাই বলুক ভুলে যান।

আপনার আদর্শ জগৎ

আপনার কোম্পানি যেন আপনার আদর্শ জগতের প্রতিফলন হয়। আপনি পৃথিবীর সব কোম্পানি কেমন হলে এই পৃথিবী আপনার কাছে অনেক অনেক সুন্দর হত মনে করেন? আপনি আপনার কোম্পানি সেভাবে গড়ে তুলুন।

বেশিরভাগ মানুষ ঠিক করে চিন্তা করে না তারা যা করছে তা কেন করছে। অন্য মানষকে অনুকরন করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা ভাবার সময় হয় না। আপনি যা করছেন তা যেন আপনার স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়। আপনার বেশিরভাগ কাজ যেন আপনার পছন্দ হয়। আপনি ভাবছেন হুহ্ বললেই হল? ব্যবসায় কত রকম কাজ করতে হয়- সব একজনের পছন্দ হবে কিভাবে?  আপনা যেটা নিজে পছন্দ না করবেন সেটা কেউ না কেউ পছন্দ করবে। সেরকম কাউকে খুঁজে বের করুন। তাকে আপনার পার্টনার বানান বা তাকে আপনার কোম্পানিতে যোগ দেয়ার আমন্ত্রন জানান।

আর আপনার উদ্যেশ্য যতক্ষণ আপনার কাছে ব্যক্তিগতভাবে অর্থপ‌ূর্ণ হবে ততক্ষণ আপনি আপাত দৃষ্টিতে বিরক্তিকর কাজের মধ্যেও আনন্দ পাবেন। প্রিয় মানুষের সাথে দেখা করতে যেতে যদি ১০ মাইল হাটতেও হয় সেটা কি আপনার কাছে বিরক্তিকর মনে হবে?

নিজের নয় অপরের জন্য

ড্রেক সিভারস একজন সংগীত শিল্পী। তিনি যখন বড় বড় মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে তার সিডি বিতরনের চেষ্টা করলেন তারা তাকে সাফ মানা করে দিল। তিনি চিন্তা করলেন তিনি নিজেই অনলাইনে বিক্রি করবেন। তার ওয়েব সাইটে ছিল শুধু  HTML পেজ। তিনি সেখানে খুব সামান্য পি.এইচ.পি কোডের মাধ্যমে অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা করলেন। সেটা দেখে তার একজন শিল্পী বন্ধু অনুরোধ করলেন তার সিডিও বিক্রির ব্যবস্থা করে দিতে। তারপর আরেক বন্ধু- তারপর বন্ধুর বন্ধু- এভাবে প্রায় ৫০ জন পরিচিত অপরিচিত শিল্পীর সিডি তার অনলাইন শপে যোগ হল। এটা ছিল তার নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে এবং অন্যদের সাহায্য করার একটা মাধ্যম। এর মাধ্যমে তার নিজের এবং অন্যদের প্রয়োজন মেটার সাথে সাথে ছয় মাসের মধ্যে হয়ে গেল একটা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান।

মিশন ষ্টেটমেন্ট

আপনি যদি আপনার ব্যবসার জন্য জমকালো মিশন স্টেটমেন্ট ঠিক করে থাকেন- তাহলে সেটা ভুলে গিয়ে সহজ একটা মিশন ষ্টেটমেন্ট ঠিক করুন। সিডিবেবি এর মিশন ষ্টেটমেন্ট ছিল এরকমঃ
১) সংগীত শিল্পী তার সিডি বিক্রির টাকা প্রতি সপ্তাহে পাবে
২) সিডি ক্রেতার সব তথ্য সংগীত শিল্পীকে চাইলে দেয়া হবে-
৩) বিক্রি যত কমই হোক কাউকে বাদ দেয়া হবে না সাইট থেকে
৪) সব সংগীত শিল্পী সআন সুযোগ পাবে। টাকার বিনিময়ে কাউকে বেশি সুযোগ দেয়া হবে না

সবকিছু এখানে করা হচ্ছে সংগীত শিল্পীর যেন সাহায্য হয়। ব্যবসার উন্নতির কথা ভেবে কিছু রাখা হয়নি। যদি কোন কোম্পানির মূল উদ্যেশ্য হয় মানুষকে সাহায্য করা তাহলে সেটা ব্যবসা সফল প্রতিষ্ঠান না হয়ে যায় না। আমরা মাইক্রোসফট, গুগল বা ফেসবুকের কথা চিন্তা করলে দেখব উভয় ক্ষেত্রে এটা সত্য। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস আর পল অ্যালান কম্পিউটারকে শুধু বড় কোম্পানি নয় সবার ডেস্কটপে দেখতে চেয়েছিলেন- গুগলের মিশন ছিল মানুষকে সহজে তথ্য খুঁজতে সাহায্য করা- আর ফেসবুকের মিশন ছিল একে অপরের সাথে সহজ যোগাযোগের ব্যবস্থা করা- কোম্পানিগুলো যে সফল এটা কাউকে বলে দিতে হয় না।

বিজনেস প্লান/ মডেল

আপনি কি ৬০ পৃষ্ঠা বিজনেস প্লানের কথা ভাবছেন? সেটার কথা পুরোপুরি ভুলে যান। ৫ বছরের প্রজেকশন সহ বিসনেস প্লান যদি আপনার বানানোর পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে স্টিভ ব্লাংকের কথাটি আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই-

No Plan Survives First Contact With Customers

সিডিবেবির বিজনেস মডেল ছিল মাত্র ২ লাইনের।
১) সংগীত শিল্পী নিজের সিডির দাম ঠিক করবে আর প্রতি বিক্রিত সিডির থেকে ৪ ডলার রেখে বাকিটা প্রতি সপ্তাহে শিল্পীকে দেয়া হবে-
২) সিডিপ্রতি ৩৫ ডলার সেটাপ ফি নেয়া হবে-

১৫ কোটি টাকার কোম্পানি যদি এই দুই লাইনের বিজনেস মডেলে চলতে পারি কোম্পানি শুরু করার আগে বিশাল বিসনেস প্লান ত্যরি কি হাস্যকর নয়?

কেউ যদি ব্যাংক লোন বা ভেন্চার ক্যাপিটালের দ্বারস্থ হন তাহলে বিসনেস প্লান একটা লাগবে- কিন্তু সেটা ভিন্ন প্রসংগ- ভেন্চার ক্যাপিটালের সাকসেস রেট ১০% এর কাছাকাছি। সুতরাং মনে রাখতে হবে ভেন্চার ক্যাপিটালের থেকে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারলেও বিফল হওয়ার সম্ভবনা ৯০%। কিন্তু ক্রেতার উপকার হয় এরকম পন্য উৎপাদন করে এরকম কোম্পানির সফল না হওয়ার সম্ভবনা খুব কম।

নিরন্তর চেষ্টা / বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা

সফল হওয়ার একমাত্র পন্থা নিরন্তর চেষ্টা করা- ঠিক? ভুল। একবার না পারলে শতবার চেষ্টা করার কথা কবিতায় লেখা আছে- কথাটার মধ্যে বড় একটা ফাঁক আছে। শতবার একইভাবে চেষ্টা করলে ফলাফল একই হবে।

সফল উদ্যোক্তা মাত্রই স্বীকার করবেন সফল হতে হলে কঠোর পরিশ্রম দরকার। কিন্তু সেটা হতে হবে প্রতিনিয়ত পদ্ধতির উন্নয়ন বা অন্য ভাবে চেষ্টা করা। একই কাজ একইভাবে শতবার চেষ্টা করার দরকার নেই।

কঠোর পরিশ্রম করার উৎসাহ ধরে রাখা খুব কঠিন। সেই কারণেই এটা খুবই গুরুত্বপ‌ূর্ণ যে ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা দাড়া করাতে চান সেটা যেন আপনি করে আন্দ পান।

পুঁজি

ব্যবসার শুরু করার জন্য পুঁজি দরকার- ঠিক? ভুল। মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল, ফেসবুক কোন কোম্পানি টাকার জোরে তৈরি হয়নি। এগুলো শুরু হয়েছে গ্যারেজ বা বিশ্ববিধ্যালয়ের ডর্মে।  যখনই কেউ আপনার উদ্যোগে বিনিয়োগ করবে তখনই তারা আপনার প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবে। পুঁজির পরিমান যত বেশি হবে নিয়ন্ত্রনের পরিমানও তত বেশি হবে।

আসলে মানুষকে সাহায্য করা যদি হয় কোম্পানির উদ্যেশ্য হয় (আমরা আগেই দেখেছি সেটার লাভজনক হতে বাধা নেই) তাহলে টাকা কি ।ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে?

সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়

আপনি যদি সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করেন তাহলে কাউকেই খুশি করতে পারবেন না। কোন একজন কাষ্টমার একটা বিশেষ অনুরোধ করছে বা বিশেষ ফিচার চাইছে আপনার পণ্যে? আপনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে তার পরামর্শের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। তারপর ভেবে দেখুন সেটা সাধারনভাবে সবার জন্য কাজে লাগবে কিনা। যদি তা না হয় তাহলে আপনি আপনার অপারগতার কথা জানান। কিন্তু কাস্টমারকে সাহায্য করাই কোম্পানির উদ্যেশ্য এটা কখনও ভুলে যাবেন না। আপনা ততক্ষন পর্যন্ত কাউকে না বলবেন না যতক্ষণ না সেটা করতে গিয়ে আপনার কোম্পানি পন্য বা সার্ভিস এর মান  সার্বিকভাবে খারাপ হয়ে যায়।

আপনি যদি এমন কোন পন্য উৎপাদন করেন যা ১% মানুষের পছন্দ হয় আর ৯৯% মানুষ সেটা পছন্দ না করে তাহলে ওই ১% আপনার পণ্যের ভক্তে পরিনত হবে। ৯০% মানুষের জন্য সাধারন মানের পন্য তৈরির চেয়ে ১% মানুষের জন্য চোখ ফেরানো যায় না এমন পন্য তৈরি করা অনেক ভাল।


আপনার কোম্পানি আপনাকে ছাড়া চলবে কি?

আপনার পকোম্পানি যদি আপনার প্রতি পুরোপুরি নির্ভরশীল হয় তাহলে সেটা অনেক বড় ঝুকি। একজনের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। আপনি যদি কোন কারণে দীর্ঘদিন কোম্পানির কাজ করতে না পারেন তাহলে যেন কোম্পানির কর্যক্রম থেমে না যায়।

তাছাড়া যদি আপনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন বা অন্য কোন কারণে কাজ করতে না পারেন তাহলে আপনার কোম্পানির কি হবে? যে কারনে একজন পিতা চান না তার মৃত্যু হলে তার সন্তানও মারা যাক- সেই কারনে আপনার কোম্পানিরও আপনার উপর শতভাগ নির্ভরশীল হওয়া উচিৎ নয়।


সঠিক পথে চলা

আপনি আপনার কোম্পানি দাড়া করিয়ে ফেলেছেন। ক্রেতা আপনার পন্য বা সার্ভিস এর গুণমুগ্ধ। তারা তাদের বন্ধুদের কাছে আপনার কোম্পানির প্রসংসা করছে। অভিনন্দন আপনাকে। আপনি অসাধারণ দক্ষতায় আপনার কোম্পানির প্রতিটা দিক সামাল দিয়েছেন। কিন্তু আপনার কোম্পানির কার্যক্রম ঠিক পথে আছেন কিনা কিভাবে বুঝবেন?

মানুষ কি আপনার কোম্পানি থেকে উপকার পাচ্ছে? আপনার কাজ কি আপনাকে আনন্দ দিচ্ছে? আপনার কোম্পানি কি লাভজনক? সবগুলি প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যা হয় তাহলে আপনি ঠিক পথেই আছেন।

যদি আপনার কোম্পানি লাভজনক হয় এবং মানুষ আপনার কোম্পানির পন্য বা সেবা থেকে উপকার পায় কিন্তু আপনি আনন্দ না পান? এটা শুধু তখনই হতে পারে যখন আপনি আর কোম্পানির উদ্যেশ্যের মধ্যে অর্থপূর্ণ কিছু খুজে পাচ্ছেন না। তাহলে আপনার উচিৎ হবে এমন একজনকে খুজে বের করা যে আপনার দায়েত্ব অর্থপূর্ণ মনে করবে। আপনার নিজের হাতে গড়া কোম্পানির প্রতি যতি আপনার বিন্দুমাত্র দরদ থাকে তাহলে সেটাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।

<<<< লেখাটি ড্রাফট- পরিবর্ধন পরিমার্জন দরকার আছে >>>>>>

5 comments:

  1. Good one. Keep going. Don't worry about the quality much, keep on producing substantial quantity, quality will improve if you are honest with your work. btw did you consider the copyright issue?

    ReplyDelete
  2. Thank you Shaer Hassan- I have zero experience in writing- But I'll try to write about all the books I have read about the topic- If someone finds one sentence useful thats not bad either-

    I have seen very well known people to write book summary- Its not illegal I believe- Also I did not use book text directly-

    ReplyDelete
  3. nice one .
    Learn something new.
    thanks for this.
    keep going.. :)

    ReplyDelete